April 19, 2026, 12:40 pm

সংবাদ কর্মী আহসান কবির খাঁন এর নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক ডাম্প ট্রাক চালক হানিফ’কে চাঁদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: গত ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ২০২১ তারিখ রাজধানীতে ময়লাবাহী গাড়ি চাপায় দুইজন নিহত হয়েছেন। গত ২৪ নভেম্বর ২০২১ তারিখ বুধবার গুলিস্তান এলাকায় নটরডেম কলেজের ছাত্র নাঈম খান ময়লাবাহী গাড়ি চাপায় নিহত হন। এইচএসসি পরীক্ষার্থী এই শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনায় ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাকের মূল চালক হারুন’কে গত ২৬ নভেম্বর ২০২১ তারিখ আটক করে র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল।

৩। সংবাদমাধ্যম কর্মী মোঃ আহসান কবির খাঁন (৪৬) পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স এর উল্টোদিকে ময়লাবাহী আরেকটি গাড়ির চাপায় নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আহসান কবির খাঁন গত ২৫ নভেম্বর ২০২১ তারিখ তার মগবাজারস্থ বাসা থেকে মিরপুরের কর্মস্থলে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ এর একটি মোটরসাইকেল করে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে আনুমানিক ১৪৩০ ঘটিকায় সোনারগাঁ মোড় থেকে পান্থপথে যাওয়ার রাস্তার সিগন্যালে অপেক্ষা করছিলেন মোটর সাইকেলের পিছনের আসনের আরোহী আহসান কবির খাঁন। এসময় অন্যান্য গাড়ির সাথে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একটি ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাক (পরীক্ষাধীন নম্বরঃ ৫১২৮) সেখানে অপেক্ষা করছিল। সিগন্যাল ছাড়া মাত্রই আহসান কবির খাঁনের মোটরসাইকেল ধাক্কা খেলে তিনি মাটিতে ছিটকে পড়েন। ময়লাবাহী গাড়ির চালক গাড়িটি না থামিয়ে তার উপর দিয়ে চালিয়ে চলে যায়। এ সময় অন্যান্য মোটর সাইকেল চালক এবং স্থানীয় লোকজন গাড়িটিকে ধাওয়া দিলে, ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাকটি গ্রীনরোড সিগন্যাল পর্যন্ত গিয়ে চালক এবং তার সহকারী গাড়িটি রেখে পালিয়ে যায়। উপস্থিত পথচারীরা আহসান কবিরকে ঘটনাস্থল হতে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার নিকট প্রাপ্ত পরিচয় পত্র থেকে তাকে সনাক্ত করা হয়। উক্ত ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাদিরা পারভীন বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় একটি মামলা রুজু করেন যার মামলা নং- ৩৩, তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২১; ধারা ১০৫ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮।

৪। নিহত আহসান কবির খাঁন দৈনিক সংবাদে কর্মরত ছিলেন। ইতিপূর্বে তিনি প্রথম আলোসহ বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে কাজ করেছেন। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংবাদমাধ্যম কর্মীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি প্রথম থেকেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হয়। র‌্যাব বর্ণিত ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে ছায়াতদন্ত শুরু করে ও জড়িত ময়লাবাহী গাড়ি চালককে আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

৫। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-২ এর অভিযানে গত ২৬ নভেম্বর ২০২১ তারিখ চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সময় ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাক (পরীক্ষাধীন নম্বরঃ ৫১২৮) এর চালক মোঃ হানিফ @ ফটিক (২৩), পিতা-মোঃ কামাল মিয়া, গ্রামঃ সিটিপল্লী (১৪ মধ্যবস্তি), পোঃ ওয়ারী টিএসও, জেলা- কুমিল্লা’কে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত হানিফ উক্ত নির্মম, হৃদয় বিদারক অকাল মৃত্যুর সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করে।

৬। গ্রেফতারকৃত হানিফ’কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, গত ২৫ নভেম্বর ২০২১ তারিখ কারওয়ান বাজার থেকে গাবতলীতে ময়লা পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল এবং সকালে দুইবার ময়লা নিয়ে গিয়েছিল। ময়লা নিয়ে তৃতীয় বার যাওয়ার সময় ময়লাবাহী ট্রাক দিয়ে মোটর সাইকেল আরোহী’কে চাপা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাকে ধাওয়া করলে সে কৌশলে গাড়ি থেকে নেমে লোকাল বাসে করে গাবতলীতে চলে যায়। গাবতলী থেকে ঐ দিনই সদরঘাট হয়ে লঞ্চে করে চাঁদপুরের হাইমচরে আত্মগোপন করে।

৭। গ্রেফতারকৃত হানিফ আরো জানায় যে, সে প্রথমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর গাড়ি মেরামত ওয়ার্কশপে মূল মেকানিকের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো। গাড়ি পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তির সাথে সখ্যতার সুবাদে প্রায় ৬/৭ বছর যাবত সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চালিয়ে আসছে। গত ৩ বছর যাবত সে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ধরণের হালকা ও ভারী যানবাহন চালাতো। সর্বশেষ গত এক বছর যাবত সে ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাক চালাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের তালিকাভুক্ত কর্মচারী/ চালক না হলেও তাকে ময়লাবাহী ভারী ডাম্প ট্রাকটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এজন্য তাকে কোনো নির্দিষ্ট বেতন দেওয়া না হলেও, গাড়ির জন্য বরাদ্দকৃত তেল হতে অতিরিক্ত তেল বিক্রিই তার আয়ের উৎস বলে সে জানায়। ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাক একটি ভারী যানবাহন, যা চালানোর জন্য পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন হলেও তার নামে হালকা যানবাহন চালানোর একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে বলে জানায়।

৮। গ্রেফতারকৃত চালক হানিফের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা